Sunday, February 21, 2016

এমন মানব জনম আর কি হবে

এমন মানব জনম আর কি হবে।
মন যা কর, ত্বরায় কর এই ভবে।।

অনন্ত রূপ সৃষ্টি করলেন সাঁই,
শুনি মানব রূপের উত্তম কিছুই নাই ।
            দেব-দেবতাগণ,
            করে আরাধন
জনম নিতে মানবে।।

কত ভাগ্যের ফলে না জানি,
মন রে, পেয়েছ এই মানব-তরণী
            বেয়ে যাও ত্বরায়
            তোমার সুধারায়,
যেন ভরা না ডোবে।।

এই মানুষে হবে মাধুর্য্য ভজন,
তাইতে মানব রূপ গঠলেন নিরঞ্জন,
            এবার ঠকলে আর
            না দেখি কিনার,
লালন কয় কাতর ভাবে।।

Thursday, September 10, 2015

কুরআনের অবিশ্বাস্য গানিতিক বিস্ময় ।

আপনি জেনে খুব বিস্মিত হবেন পবিত্র কুরআনের আয়াত গুলোর মধ্যে ১৯ সংখ্যাটির কারুকার্য অত্যন্ত নিখুঁতভাবে গেঁথে দেওয়া হয়েছে । কুরআন যদি কোন রক্ত মাংসের মানুষ দ্বারাই রচিত হত তবে এতে এমন নিখুঁত গানিতিক হিসাব থাকত না । মানুষের চিন্তাশক্তির একটা সীমা আছে, কিন্তু কুরআনের এই নিখুঁত হিসাব সেই সীমাকে অতিক্রম করে অসিমে চলে যায় আর প্রমান করে এক মহাশক্তির অস্তিত্বের সত্যতা । সেই মহাশক্তিই হল মহান আল্লাহ সুবহানওয়াতায়ালা । পুরোটা পড়ার পর আপনার মাথা তাঁর প্রতি শ্রদ্ধায় নত হয়ে আসবে ।



১। আরবীতে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিমলিখতে ঠিক ১৯ টা হরফ লাগে ।
২। কুরআনে মোট ১১৪টি সূরা আছে । ১১৪ সংখ্যাটি ১৯ দিয়ে বিভাজ্য (১১৪=১৯x৬)।
৩। প্রথম যে সূরাটি(সূরা আলাক) নাযিল হয় তার অবস্থান শেষের দিক থেকে ১৯ তম ।
৪। প্রথম যে পাঁচটি আয়াত(সূরা আলাকের) নাযিল হয় তাতে ঠিক ১৯ টি শব্দ আছে ।
৫। সূরা আলাকে মোট আয়াত আছে ১৯টি । আর এই ১৯ আয়াতে আছে মোট ২৮৫টি শব্দ যা কিনা বিস্ময়করভাবে ১৯ দিয়ে নিঃশেষে ভাগ করা যায় (২৮৫=১৯x১৫) ।
৬। নাযিলকৃত দ্বিতীয় সূরাটির (সূরা আল-কালাম, কুরআনে অবস্থান ৬৮তম) শব্দসংখ্যা ৩৮(১৯x২)টি।
৭। নাযিলকৃত তৃতীয় সূরাটির (সূরা আল-মুজাম্মিল, কুরআনে অবস্থান ৭৩তম) শব্দসংখ্যা ৫৭(১৯x৩)টি।
৮। আবার সব শেষে নাযিল হওয়া সূরা আন-নাসরএ আছে মোট ১৯টি শব্দ । আর এই সূরার প্রথম আয়াতে(আল্লাহ্‌র কাছে সাহায্য চাওয়া হয়েছে এই আয়াতে) আছে ঠিক ১৯টি হরফ ।
৯। কুরআনে আল্লাহ্‌নামটি উল্লেখ করা হয়েছে মোট ১৩৩বার যা কিনা ১৯ দিয়ে বিভাজ্য (১৩৩=১৯x৭)।
১০। কুরআনে মোট তিরিশটি পূর্ণসংখ্যার উল্লেখ আছে যাদের যোগফল ১৯ দিয়ে বিভাজ্য ।

1 + 2 + 3 + 4 + 5 + 6 + 7 + 8 + 9 + 10 + 11 + 12 + 19 +20 + 30 + 40 + 50 + 60 + 70 + 80 + 99 + 100 + 200 + 300 + 1000 + 2000 + 3000 + 5000 + 50000 + 100000 = 162,146 (19 x 8534)

১১। আর দশমিক ভগ্নাংশ আছে মোট ৮টি 1/10, 1/8, 1/6, 1/5, 1/4, 1/3, 1/2 এবং 2/3. । তাহলে কুরআনে মোট ৩৮ টি সংখ্যার উল্ল্যেখ আছে (৩৮=১৯x২)।

১২। ১১৩টি সূরার আগে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিমআছে । শুধুমাত্র সূরা আত-তাওবা এর আগে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিমনেই । আর সূরা আন-নামল এর আগে আছে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিমদুইবার করে আছে । তাহলে কুরআনে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিমআছে মোট ১১৪(১৯ x৬)বার । সূরা আত-তাওবা কে প্রথম ধরে যদি গুনে গুনে পরবর্তী সূরার দিকে যেতে থাকেন তবে সূরা আন-নামল পাবেন ঠিক ১৯তম স্থানে ! (ছবিতে দেখুন)
আরও একটু অবাক হওয়া যাক, ১৯ এর গুনিতক-তম সূরার আয়াতগুলির (বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিমসহ) যোগফলও ১৯ এর গুনিতক মানে ১৯ দিয়ে বিভাজ্য !

কুরাআনে সূরার অবস্থান         আয়াত সংখ্যা
১৯x১=  ১৯তম সূরা                        ৯৯
১৯x২=  ৩৮তম সূরা                       ৮৯
১৯x৩= ৫৭তম সূরা                        ৩০
১৯x৪= ৭৬তম সূরা                        ৩২
১৯x৫= ৯৫তম সূরা                         
১৯x৬= ১১৪তম সূরা                       
                                             =২৬৬(১৯x৪)
১৩ । প্রথম দিক থেকে হিসেব করে যেতে থাকলে ১৯ আয়াত সম্বলিত প্রথম সূরা হচ্ছে সূরা আল-ইনফিতার । এই সুরাটির শেষ শব্দ হল আল্লাহ্‌। আপনি যদি শেষের দিক হতে আল্লাহ্‌ শব্দটি গুনেগুনে আসতে থাকেন আপনি তাহলে সূরা আল-ইনফিতারের শেষের আল্লাহ্‌এর অবস্থান হবে একদম ঠিক ১৯তম স্থানে ! আল্লাহ্‌ আকবর ।
১৪ । ৫০ এবং ৪২তম সূরার প্রত্যেকেই শুরু হয়েছে কাফ দিয়ে । অবাক হবেন সূরা দুটির প্রত্যেকটিতে মোট কাফের সংখ্যা(৫৭=১৯ x) সমান । আবার ৫০তম সূরায় আয়াত আছে ৪৫টি, যোগ করুন ৫০+৪৫= ৯৫(১৯ x৫) । একইভাবে ৪২তম সূরায় আয়াত আছে ৫৩টি, ৪২+৫৩= ৯৫(১৯ x৫) ।

৫০তম সূরা                                  ৫৭(১৯ x৩) বার কাফ
৪২তম সূরা                                  ৫৭(১৯ x৩) বার কাফ
৫০তম সূরা       ৪৫টি আয়াত           ৫০+৪৫= ৯৫(১৯ x৫)
৪২তম সূরা       ৫৩টি আয়াত           ৪২+৫৩= ৯৫(১৯ x৫)
আবার পুরো কুরআনে কাফ হরফটি আছে মোট ৭৯৮ বার যা কিনা ১৯ দিয়ে বিভাজ্য এবং ভাগফল হয় ৪২ । আর দেখতেই পেয়েছি যে ৪২ তম সুরাটি শুরুও হয়েছে কাফ দিয়ে ।
শুধু কাফ না নুনহরফটির ক্ষেত্রেও এরকম বেপার আছে ।  যেমন নুন দিয়ে যে সূরাটি শুরু হয়েছে তাতে নুনের মোট সংখ্যাও(১৩৩) ১৯ দিয়ে বিভাজ্য (১৩৩= ১৯x৭) ।

Description: কোরান
সূরা আত-তাওবা কে প্রথম ধরে যদি গুনে গুনে পরবর্তী সূরার দিকে যেতে থাকেন তবে সূরা আন-নামল পাবেন ঠিক ১৯তম স্থানে !

কুরআনে সূরা আল-মুদ্দাসিরের ৩০ নম্বর আয়াতে চ্যালেঞ্জ করে বলা আছে   There are nineteen in charge of it.” (Qur’an, 74:30) অর্থাৎ ১৯ সংখ্যাটি এর দায়িত্তে আছে । অর্থাৎ কেউ ইচ্ছা করলেই কুরআনকে বিকৃত করতে পারবে না । ১৯ এর বেপার গুলো হিসেব করলেই সব বের হয়ে আসবে এটাকে কেউ বিকৃত করেছে কিনা !একটু চিন্তা করুন কেউ একটা বই লিখে সেই বইয়ের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে এমন একটা চ্যালেঞ্জ করতে পারবে? আপনি অনেক প্রতিভাবান লেখক আপনি পারবেন শব্দ,বর্ণ,বাক্যের সংখ্যা নিয়ে এরকম একটা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে একটা বই লিখতে ? এসবই প্রমাণ করে কুরআন কোন মানুষের তৈরি কাকতালীয়ভাবে মিলে যাওয়া কোন বই না । এটা সৃষ্টিকর্তার নিজের কথা,বানী । একারণেই আদ্যবধি যেমন কুরআন বিকৃত হয়নি তেমনি কেয়ামতের আগ পর্যন্তও হবে না । মহাশক্তিধর আল্লাহ্‌ নিজেই যে এর রক্ষক ।

আল- কোরআন ও ভ্রুণতত্ত্ব

লক্ষ লক্ষ কোষ (cell) দ্বারা গঠিত মানব দেহ সৃষ্টি নৈপুন্যতায় এক জটিল ও অসাধারণ সৃষ্টি। এসব কোষ কিন্তু বিস্তৃত হয়েছে একটি মাত্র কোষ থেকে। জীবনের শুরুতে একটি পুংজনন কোষ, যার নাম শুক্রাণু (sperm), এবং একটি স্ত্রী প্রজনন কোষ যার নাম ডিম্বানু (ovum)দুই জনন কোষের মিলনকে বলা হয় নিষেক। আল- কোরআনে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা বলেন- হে মানবজাতি ! কর্তব্যনিষ্ঠ হও তোমাদের প্রভুর প্রতি যিনি তোমাদের সৃস্টি করেছেন একটি মাত্র নাফস থেকে।” ( সূরা নিসা-১)
 আরবী নাফসশব্দের অর্থ হচ্ছে প্রাণশক্তি, জীবন স্পন্দন। এসব শব্দের অন্তর্নিহিত বিজ্ঞান ভিত্তিক অর্থ হচ্ছে কোষ বা cell.
হে মানব সকল ! আমরা তোমাদের সৃষ্টি করেছি পিতৃ ও মাতৃ (জনন কোষ) থেকে।
(সূরা হুজরাত-১৩)
নিশ্চয়ই আমরা মানুষকে সৃস্টি করেছি সংমিশ্রিত নুৎফা থেকে। (সূরা দাহর-২)
বিশেষ দ্রষ্টব্য : আরবী ভাষায় আমরা শব্দটি সম্মানবাচক সর্বনাম অর্থে ব্যবহৃত হয়।
আল্লাহ মানুষ কে সৃষ্টি করেছেন নুৎফা থেকে।” (সূরা নাহল-৪)
অতঃপর নুৎফা কে প্রতিস্থাপন করেছি একটি সুরক্ষিত আধারে যা দৃঢ়ভাবে সংরক্ষিত।
(সূরা মুমিনূন-১৩)
আরবী নুৎফা শব্দের দ্বারা Sperm বা Ovum অথবা Sperm/Ovum উভয়কে বুঝানো হয়। নুৎফা শব্দের আরো অনেক অর্থ হতে পারে। যেমন Zygoteএকজন ইহুদী পন্ডিত মুহাম্মাদ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে জিজ্ঞাস করলেন, হে মুহাম্মাদ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মানুষ কি দ্বারা সৃস্টি হয়েছে ? জবাবে রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, পুরুষ ও নারী উভয়ের নুৎফা থেকে। (মুসনাদে আহমদ)
আল- কোরআন ও ভ্রুণতত্ত্ব ২য় পর্ব
মাতৃগর্ভে একটি মানব শিশু পরিপূর্ণতা লাভ করে স্তরের পর অতিক্রম করে। বৃটিশ ভ্রুণ তত্ত্ববিদ Von bear, ১৮২৭ সালে ভ্রুণ বিকাশের স্তর গুলো আবিস্কার করেন।
৭ম শতাব্দীতে অবতীর্ণ আল-কোরআনে ভ্রুণ বিকাশের পর্যায়গুলো বিভিন্ন সূরায় খন্ডিত ভাবে বর্নিত হয়েছে। যেমন আল- কোরআনে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা বলেন- তিনি আল্লাহ, যিনি তোমাদের বিভিন্ন স্তর থেকে সৃষ্টি করেছেন। ” (সূরা নূহ-১৪)
প্রকৃতপক্ষে আমরা মানুষ সৃষ্টি করেছি মাটির সার নির্যাস থেকে। পরে তা নুৎফা (জাইগোট) রুপে একটি সুরক্ষিত আধারে (জরায়ু) স্থাপন করেছি। অতঃপর তা জমাট রক্তপিন্ডে (জোঁক সদৃশ বস্তু) রুপান্তর করে লটকে দিয়েছি। তারপর লটকে যাওয়া রক্তপিন্ডকে মাংসপিন্ডে পরিণত করেছি। এরপর তাকে অস্থি বানিয়েছি। তারপর অস্থির উপর মাংসপেশী জড়িয়ে দিয়েছি। অবশেষে তাকে একটি ভিন্ন রূপ (পূর্ণশিশু) দান করেছি। সুতরাং তিনি মহামহিম আল্লাহ তায়ালা যিনি সর্বময় মহান স্রস্টা। ” ( সূরা মুমিনুন, ১২-১৫ ) বিশেষ দ্রষ্টব্য : আরবী ভাষায় আমরা শব্দটি সম্মানবাচক সর্বনাম অর্থে ব্যবহৃত হয়।
তিনি আল্লাহ যিনি তোমাদের সৃস্টি করেছেন মাটি থেকে, তারপর নুৎফা থেকে তারপর আলাক থেকে, অতঃপর তোমাদের বের করেন একটি পরিপূর্ণ মানব শিশু রুপে।” ( সূরা মুমিন-৬৭ )
উপরোক্ত আয়াতগুলির বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ করে আমরা যা পাই তা হলোঃ মাটির সার নির্যাস বলতে বুঝানো হয়েছে সোডিয়াম (Na), ক্যালসিয়াম (Ca), নাইট্রোজেন (N), পটাশিয়াম (k) ইত্যাদি। বৃক্ষরাজি ও ক্ষেতের ফসল মূলের সাহায্যে এগুলি চুষে নেয়। ফল ও ফসলগুলো মানুষ খাদ্য রুপে গ্রহন করার পর পাকস্থলিতে পরিপাক হয়। সেখান থেকেই পুরুষের শুক্রাশয় (Sperm) এবং নারীর ডিম্বানু (Ovum) উৎপন্ন হয়। অতঃপর Sperm এবং Ovum এর নিষেক থেকে সৃষ্টি হয় জাইগোট (Zygote). জাইগোট জরায়ুতে স্থানান্তরিত হয়ে ভ্রুণ গঠন করে। আর এ ভ্রুণ ক্রমান্বয়ে রুপান্তরের মাধ্যমে একটি পরিপূর্ন মানুষ সৃষ্টি হয়। এখানে জমাট রক্তপিন্ড এর আরবী নাম হল আলাক্ব। বিজ্ঞানে যাকে বলা হয় Blastocyst. এটি দেখতে জোঁকের মত। একটি জোঁক রক্ত চুষে যে রুপ ধারণ করে আলাক সেরকম একটি বস্তু। ৩ থেকে ৪ সপ্তাহের মধ্যে আলাক জোঁক সদৃশ রূপ ধারণ করে। তারপর আলাক মাংসপিন্ডে পরিণত হয়, বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলা হয় Somites. এ প্রক্রিয়া অন্তত ২৩-৪২ দিন পর্যন্ত চলে। এরপর হাঁড় তৈরীর পর্যায় আরম্ভ হয়। প্রথমে যে হাঁড়গুলি দেখা দেয় সেগুলি উপরিভাগের কচি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ। তারপর এ কচি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ এর উপর মাংসপিন্ড গঠিত হয়ে অস্থি বা কংকালে পরিণত হয়, বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলে Skelton. ৮ সপ্তাহের সময় পেশী গুলি হাঁড়ের চারপাশে আবৃত হতে থাকে। ১২ সপ্তাহের মধ্যে ভ্রুণের একটি ক্ষুদ্র পূর্ণাংগ কংকাল গঠিত হয়। এরপর কংকাল এর চারপাশে মাংসপেশী বিস্তার লাভ করে এবং অস্থিগুলো যথাযথ আকার ধারণ করে। এসময় ভ্রুনটি নড়াচড়া করতে সক্ষম হয়।

ভ্রুন বিকাশের প্রতিটি স্তর ৩ টি পর্দা দ্বারা সুরক্ষিত এবং এসব আবরণী ভ্রুণ কে শরীর বৃত্তীয় সুযোগ-সুবিধা প্রদান করে। এ কথাটিও আল-কোরআনে বলা হয়েছে- আল্লাহ তোমাদের সৃষ্টি করেছেন মাতৃগর্ভে এক স্তর থেকে অন্য স্তরে ৩ টি গাঢ় পর্দার ভিতর থেকে। ” (সূরা যুমার-৬)

পৃথিবীর ইতিহাস পাল্টে দিতে পারত বিজ্ঞানের যে অপ্রকাশিত এবং গোপনীয় অধ্যায়

পুরো ব্যাপারটা প্রকাশিত হলে প্রায় কয়েক দশক এগিয়ে যেত পৃথিবী,পাল্টে যেতে পারত আমাদের পৃথিবীর চিরপরিচিত চেহারা, আমরা হতে পারতাম মহাবিশ্বের সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণীর আরও উপযুক্ত দাবীদার।কিন্তু তা হয়নি, আরও ভালো করে বললে হতে দেওয়া হয়নি।আসলে বিজ্ঞান কখনই নিজের মত করে মাস পিপলের কাছে পৌছাতে পারেনি,কোন যুগে ধর্ম একে শেষ করে দিতে চেয়েছে,তো অন্য যুগে এইটি পৃথিবীর নোংরা রাজনীতি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে,আবার কোন কোন সময় মহা পরাক্রম শালী কিছু প্রতিষ্ঠান বিজ্ঞানী এবং তাদের আবিস্কার এই দুই কে কাজে লাগিয়েছে শুধু তাদের নিজেদের স্বার্থে। ফিলাডেলফিয়া এক্সপেরিমেন্ট-মানুষের এই পর্যন্ত করা সবচেয়ে আশ্চর্যের একটি এক্সপেরিমেন্ট, এইটির কথাই বলছি আমি।
এইবার আসি মূল ঘটনাই।কি হয়েছিল এই এক্সপেরিমেন্ট এ?
এইটা প্রজেক্ট রেইনবো নামেও পরিচিত।পুরো এক্সপেরিমেন্ট টা করা হয়েছিল আমেরিকার নেভাল একাডেমী তে যেটা ফিলাডেলফিয়া তে অবস্থিত।ঘটনার কাল-২২ ই জুলাই,১৯৪৩।সেদিন ওই নেভাল একাডেমী তে Aldridge নামে একটি বিশালাকার জাহাজের উপর ওই পরীক্ষা চালানো হয়। উদ্দেশ্য জাহাজটিকে অদৃশ্য করে দেওয়া।খুব অদ্ভুত পরীক্ষা,তার ছেয়েও অদ্ভুত তার উদ্দেশ্য।কিন্তু মাঝে মাঝে বাস্তবতা ফিকসান কেও হার মানায়।সেটাই হল ফিলাডেলফিয়ায়। প্রায় অদৃশ্য হয়ে গেল জাহাজটি।অতটুকু পর্যন্তই।পুরোপুরি সফল হলনা উদ্দেশ্য।ইটি সেই জাহাজ যাকে অদৃশ্য করে দেওয়া হয়।
২৮ ই অক্টবার,১৯৪৩। আবার করা হয় এক্সপেরিমেন্ট তি।এইবার বিশাল জাহাজটি সব ক্রু সহ তো অদৃশ্য হল এবং ১০ সেকেন্ড পর একে পাওয়া যায় প্রায় ২০০ মাইল দূরে ভারজিনিয়ায়।পুরো ব্যাপারটাই অবিশাস্য।
যদিও আমেরিকান নেভাল একাডেমী ব্যাপারটি কখনই স্বীকার করে নেয়নি।বরাবর ই তারা ব্যাপারটিকে অস্বীকার করে hoax বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
আসল ব্যাপারটা হল এই ব্যাপারটা নিয়ে একদল বিজ্ঞানী ব্যাপারটা নিয়ে কাজ করে আসছিল অনেক আগ থেকেই।এই বিজ্ঞানিদের মধ্যে আইনসটাইন,নিকল টেসলা সহ আরও অনেক বিখ্যাত বিজ্ঞানী ছিল।এই এক্সপেরিমেন্ট টা করা হয়েছিল unified field theory এর উপর ভিত্তি করে।যদিও আমাদের জানা মতে পুরো থিওরিটির কাজ আইনসটাইন শেষ করে যেতে পারেন নি।কিন্তু ফিলাডেলফিয়া প্রজেক্ট নিয়ে যে কয়েক টা গল্প বাজারে চাউর আছে তার মধ্যে সব চেয়ে গ্রহণযোগ্য মতামত হল আসলে unified field theory টার প্রমান করা হয়েছিল এবং এটা গোপন রাখা হয়েছিল , ফিলাডেলফিয়া এক্সপেরিমেন্ট টি ছিল এর একটি এপ্লিকেসান মাত্র।এই ব্যাপারে William moor তার Philadelphia experiment বইটাতে একটি চিটির রেফারেন্স দিয়েছেন যেটি কার্ল এলেন্স লিখেছিলেন জেসাপ এর কাছে।এই চিটিতে আইনসটাইন এবং বারটান্ড রাসেল এর কথোপকথন উল্লেখ করা হয়েছে যেখানে আইন্সটাইন নিজেই unified field theory শেষ করার কথা বলেছিলেন।নিকল টেসলার ও এই ব্যাপারে স্বীকারোক্তি আছে।
কিভাবে করা হয়েছিল পুরো এক্সপেরিমেন্ট টা? যতটুকু জানা যায় পুরো জাহাজ টাকে তার দিয়ে মোড়ানো হয়েছিল,তারপর বিশাল ইলেক্ট্রিক্যাল জেনারেটর এর সাহায্যে এর মধ্যে দিয়ে কারেন্ট পাস করানো হয়েছিল এবং পুরো জায়গায় বিশাল ম্যাগনেটিক ফিল্ড তৈরি করা হয়েছিল।এই ম্যাগনেটিক ফিল্ড দ্বারাই জাহাজের আশপাশের আলো কে bend করা হয়েছিল।জাহাজের আশপাশের আলো বেন্ড হয়ে যাওয়ার ফলে আমরা জাহাজ টিকে আর দেখতে পাই না অন্যভাবে বললে জাহাজটি অদৃশ্য হয়ে যায়। এইভাবেই জাহাজটি অদৃশ্য হয়ে যায়।আর দ্বিতীয় এক্সপেরিমেন্ট টিতে জাহাজ টির মুহূর্তে ২০০ মাইল পাড়ি দেওয়ার ব্যাপারটা আইনস্টাইন এর একটি কথায় পরিস্কার হবে।তিনি বলেছিলেন আমরা যদি আলো কে বেন্ড করতে পারি তবে আমাদের দ্বারা সময় এবং স্থান দুটুকেই বেন্ড করা সম্ভব হবে।আর এই দুটুকে বেন্ড করা গিয়েছিল বলেই জাহাজ টিকে ওই অল্প সময়ে অত দূরে পাঠানো সম্ভব হয়েছিল। ঠিক এইভাবেই ম্যাগনেটিক ফিল্ড তৈরি করে আলোকে বেন্ড করা হয়েছিল।
ওই জাহাজের মধ্যে যারা ছিল তারা অধিকাংশই মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে।যারা সুস্থ ছিল তাদের কেও বিভিন্ন ভাবে এর গোপনীয়তা রাখার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল।কিন্তু কেন এই গোপনীয়তা? আমরা আজো জানিনা।আসলে আমেরিকান মিলিটারি দের অধিকাংশ রিসার্চ সম্পর্কে বাইরের দুনিয়াকে কিছুই জানতে দেওয়া হয় না।এই এরিয়া ৫১ এর কথাই ধরুন না। আমরা সবাই জানি জায়গাটা আছে,কিন্তু অত একটা বিশাল জায়গা জুড়ে কি করা হয় টা সম্পর্কে আমরা কিছুই জানিনা।অনেক রহস্যময় গল্প চালু আছে এই নিয়ে।থাক,সে গল্প অন্যদিন।ও ভালো কথা, ফিলাডেলফিয়া প্রজেক্ট নিয়ে কিন্তু হলিউডে মুভিও হয়েছে-the philladelphia experiment (1984),directed by stewart raffil.চাইলে মুভিটা দেখে নিতে পারেন।

সবাই ভালো থাকবেন।

“পৃথিবীটা কত বিচিত্র”

১০০ বছর আগেও বোর্নিওতে মানুষের মাথার খুলি মুদ্রা হিসেবে ব্যবহার করা হতো।
প্রাচীনকালে শুধু চিনেই রেশম চাষ হতো। তা হতো কড়া পাহারায়। কেউ এই গোপনীয়তা ফাঁস করার চেষ্টা করলে তারশাস্তি হতো মৃত্যুদণ্ড।
বিড়াল ১০০ রকম শব্দ করতে পারে। আর কুকুর পারে মাত্র ১০ রকম।
বাচ্চা বিড়াল চোখ বন্ধ অবস্থায় জন্মায়। ৭ থেকে ১৪ দিন এভাবে চোখ বন্ধ অবস্থাতেই থাকে।
পৃথিবীর প্রাণীদের মধ্যে ৮০ ভাগই হচ্ছে পোকামাকড়।
প্রাচীনকালে গ্রীক ও রোমানরা শুকনো তরমুজকে মাথার হেলমেট হিসেবে ব্যবহার করতো।
চোখ খুলে হাঁচি দেখা সম্ভব নয়। আয়নায় চেষ্টা করে দেখতে পারেন!।
শিশুরা কথা বলতে শিখলেই নানান প্রশ্ন করে। একটি ৪ বছরের শিশু প্রতিদিন গড়ে ৪৩৭টি প্রশ্ন করে।
বিগত চার হাজার বছর মানুষ নতুন কোন প্রাণীকে পোষ মানাতে পারেনি।
প্রত্যেক মানুষের হাতের ছাপের মতো জিহ্বার ছাপও পুরোপুরি আলাদা। কারোটার সাথে কারোটার কোন মিল নেই।
মাথা কাটা পড়লেও তেলাপোকা বেঁচে থাকে কয়েক সপ্তাহ! ঐ কয়দিন কিভাবে সে খানাপিনা করে কে জানে?
উড়ার সময় বাদুড় সবসময় বামদিকে মোড় নেয়, কখনো ডানদিকে যায় না।
কাঠবিড়ালীরা পিছু হটতে পারেনা। মানে পেছন দিকে যেতে চাইলেও পুরো উল্টা ঘুরে তারপর ওদেরকে পিছন দিকে যেতে হয়।

জানা-অজানা

* একজন মানুষের মস্তিষ্কে থাকে প্রায় ১০০ বিলিয়ন নিউরন
* মানব মস্তিষ্কের প্রায় ৭৫ ভাগই পানি ।
* একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মস্তিষ্ক অক্সিজেন ছাড়া মাত্র ৫ মিনিট টিকতে পারবে।
* মানুষের মস্তিষ্কের প্রতি সেকেন্ডে ১০১৫ টি হিসাব করার ক্ষমতা আছে।
* একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ প্রতিদিন প্রায় ৭০০০০ বিষয় নিয়ে চিন্তা করতে সক্ষম।
* সুস্থ দেহে রক্তের গতিবেগ ঘণ্টায় সাত মাইল।
* আমাদের শরীরে পেশী আছে ৬০০ টিরও বেশি।
* কিছু পিঁপড়ে বোমার মতো নিজেদের বিস্ফোরিত করতে পারে।
* পাখি জগতে প্যাঁচাই কেবল চোখের উপরের পাতা পিটপিট করে। বাকি সব পাখি পিটপিট করে চোখের নিচের পাতা।
* পৃথিবীর কেন্দ্রে পর্যাপ্ত স্বর্ণ আছে যা দিয়ে পৃথিবীর সমস্ত স্থলভূমি হাঁটু পর্যন্ত ঢেকে ফেলা যাবে।



সকালবেলা লোকজনকে জেগে রাখতে কফির চেয়ে আপেল কার্যকরী

·         রাশিয়ার ৮% পলিটিশিয়ান হয় গুপ্তচর অথবা গুপ্তচর ছিল ! গড়ে এক একটা কোকুন (মথ) থেকে ৩০০-৪০০মিটার সিল্ক সুতা তৈরি হয় !
·         Ernest Vincent Wright নামক এক লেখকের উপন্যাসে প্রায় পঞ্চাশ সহস্রাধিক শব্দ আছে, যেখানে কোন E অক্ষর নাই !
·         সকালবেলা লোকজনকে জেগে রাখতে কফির চেয়ে আপেল কার্যকরী ! অধিকাংশ লিপস্টিকেই কিছু পরিমান মাছের আইস থাকে !
·         পিঁপড়া কখনও ঘুমায় না
·         টয়লেট পেপার আবিস্কারের আগে ফরাসী রাজপরিবার টয়লেট পেপারের পরিবর্তে মসৃন লিনেন ব্যবহার করত
·         একটা গোল্ডফিসের স্মৃতির দৈর্ঘ্য প্রায় ৩সেকেন্ড
·         প্রতি বছর গড়ে উঃ আমেরিকার বাচ্চারা হাফ বিলিয়ন ডলার খরচ করে চুইং গাম কিনতে।

·         একটা ডিসপজেবল ডায়াপার গড়ে সাত পাউন্ড তরল ধারনকরতে পারে।

“ক্ষুধার্ত থেকো, বোকা থেকো” (স্টিভ জবস)

ক্ষুধার্ত থেকো, বোকা থেকো
-স্টিভ জবস
[আইটি সেক্টরে আমার সবচেয়ে প্রিয় মানুষটির নাম স্টিভ জবস। বিশ্বখ্যাত কম্পিউটার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাপল ও অ্যানিমেশন স্টুডিও পিক্সারের (টয় স্টোরি, ফাইন্ডিং নিমো, মনস্টার ইনকরপোরেটেড, ওয়াল-ই, আপ-এর মতো অসাধারণ অ্যানিমেশন তৈরি করেছেন) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এই অসাধারণ মানুষটি যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন বক্তা হিসেবে ২০০৫ সালে আমন্ত্রিত হয়েছিলেন। সে অনুষ্ঠানে যে ভাষণটি তিনি দিয়েছিলেন, সেটি সত্যিই অসাধারণ। এখানে সবার জন্য শেয়ার করলাম। এখানে দেখুন

প্রথমেই একটা সত্য কথা বলে নিই। আমি কখনোই বিশ্ববিদ্যালয় পাস করিনি। তাই সমাবর্তন জিনিসটাতেও আমার কখনো কোনো দিন উপস্থিত হওয়ার প্রয়োজন পড়েনি। এর চেয়ে বড় সত্য কথা হলো, আজকেই কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠান সবচেয়ে কাছে থেকে দেখছি আমি। তাই বিশ্বের অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পেরে নিজেকে অত্যন্ত সম্মানিত বোধ করছি। কোনো কথার ফুলঝুরি নয় আজ, স্রেফ তিনটা গল্প বলব আমি তোমাদের। এর বাইরে কিছু নয়।
Description: http://www.alokborsho.com/wp-content/uploads/2011/10/steve-jobs-300x215.jpg
আমার প্রথম গল্পটি কিছু বিচ্ছিন্ন বিন্দুকে এক সুতায় বেঁধে ফেলার গল্প:-
ভর্তি হওয়ার ছয় মাসের মাথাতেই রিড কলেজে পড়ালেখায় ক্ষ্যান্ত দিই আমি। যদিও এর পরও সেখানে আমি প্রায় দেড় বছর ছিলাম, কিন্তু সেটাকে পড়ালেখা নিয়ে থাকা বলে না। আচ্ছা, কেন আমি বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়লাম?
এর শুরু আসলে আমার জন্মেরও আগে। আমার আসল মা ছিলেন একজন অবিবাহিত তরুণী। তিনি তখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন। আমার ভরণ-পোষণের দায়িত্ব নেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, আমাকে এমন কারও কাছে দত্তক দেবেন, যাঁদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি আছে। সিদ্ধান্ত হলো এক আইনজীবী ও তাঁর স্ত্রী আমাকে দত্তক নেবেন। কিন্তু একদম শেষ মুহূর্তে দেখা গেল, ওই দম্পতির কারোরই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি নেই, বিশেষ করে আইনজীবী ভদ্রলোক কখনো হাইস্কুলের গণ্ডিই পেরোতে পারেননি। আমার মা তো আর কাগজপত্রে সই করতে রাজি হন না। অনেক ঘটনার পর ওই দম্পতি প্রতিজ্ঞা করলেন, তাঁরা আমাকে অবশ্যই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াবেন, তখন মায়ের মন একটু গলল। তিনি কাগজে সই করে আমাকে তাঁদের হাতে তুলে দিলেন।
এর ১৭ বছর পরের ঘটনা। তাঁরা আমাকে সত্যি সত্যিই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়েছিলেন। কিন্তু আমি বোকার মতো বেছে নিয়েছিলাম এমন এক বিশ্ববিদ্যালয়, যার পড়ালেখার খরচ প্রায় তোমাদের এই স্ট্যানফোর্ডের সমান। আমার দরিদ্র মা-বাবার সব জমানো টাকা আমার পড়ালেখার পেছনে চলে যাচ্ছিল। ছয় মাসের মাথাতেই আমি বুঝলাম, এর কোনো মানে হয় না। জীবনে কী করতে চাই, সে ব্যাপারে আমার কোনো ধারণা নেই এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ালেখা এ ব্যাপারে কীভাবে সাহায্য করবে, সেটাও বুঝতে পারছিলাম না। অথচ মা-বাবার সারা জীবনের জমানো সব টাকা এই অর্থহীন পড়ালেখার পেছনে আমি ব্যয় করছিলাম। তাই আমি বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলাম এবং মনে হলো যে এবার সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। সিদ্ধান্তটা ভয়াবহ মনে হলেও এখন আমি যখন পেছন ফিরে তাকাই, তখন মনে হয়, এটা আমার জীবনের অন্যতম সেরা সিদ্ধান্ত ছিল। বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমি ডিগ্রির জন্য দরকারি কিন্তু আমার অপছন্দের কোর্সগুলো নেওয়া বন্ধ করে দিতে পারলাম, কোনো বাধ্যবাধকতা থাকল না, আমি আমার আগ্রহের বিষয়গুলো খুঁজে নিতে লাগলাম।
পুরো ব্যাপারটিকে কোনোভাবেই রোমান্টিক বলা যাবে না। আমার কোনো রুম ছিল না, বন্ধুদের রুমের ফ্লোরে ঘুমোতাম। ব্যবহূত কোকের বোতল ফেরত দিয়ে আমি পাঁচ সেন্ট করে কামাই করতাম, যেটা দিয়ে খাবার কিনতাম। প্রতি রোববার রাতে আমি সাত মাইল হেঁটে হরেকৃষ্ণ মন্দিরে যেতাম শুধু একবেলা ভালো খাবার খাওয়ার জন্য। এটা আমার খুবই ভালো লাগত। এই ভালো লাগাটাই ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
রিড কলেজে সম্ভবত দেশে সেরা ক্যালিগ্রাফি শেখানো হতো সে সময়। ক্যাম্পাসে সাঁটা পোস্টারসহ সবকিছুই করা হতো চমত্কার হাতের লেখা দিয়ে। আমি যেহেতু আর স্বাভাবিক পড়ালেখার মাঝে ছিলাম না, তাই যে কোনো কোর্সই চাইলে নিতে পারতাম। আমি ক্যালিগ্রাফি কোর্সে ভর্তি হয়ে গেলাম। সেরিফ ও স্যান সেরিফের বিভিন্ন অক্ষরের মধ্যে স্পেস কমানো-বাড়ানো শিখলাম, ভালো টাইপোগ্রাফি কীভাবে করতে হয়, সেটা শিখলাম। ব্যাপারটা ছিল সত্যিই দারুণ সুন্দর, ঐতিহাসিক, বিজ্ঞানের ধরাছোঁয়ার বাইরের একটা আর্ট। আমি এর মধ্যে মজা খুঁজে পেলাম।
এ ক্যালিগ্রাফি জিনিসটা কোনো দিন বাস্তবজীবনে আমার কাজে আসবেএটা কখনো ভাবিনি। কিন্তু ১০ বছর পর আমরা যখন আমাদের প্রথম ম্যাকিন্টোস কম্পিউটার ডিজাইন করি, তখন এর পুরো ব্যাপারটাই আমার কাজে লাগল। ওটাই ছিল প্রথম কম্পিউটার, যেটায় চমত্কার টাইপোগ্রাফির ব্যবহার ছিল। আমি যদি সেই ক্যালিগ্রাফি কোর্সটা না নিতাম, তাহলে ম্যাক কম্পিউটারে কখনো নানা রকম অক্ষর (টাইপফেইস) এবং আনুপাতিক দূরত্বের অক্ষর থাকত না। আর যেহেতু উইন্ডোজ ম্যাকের এই ফন্ট সরাসরি নকল করেছে, তাই বলা যায়, কোনো কম্পিউটারেই এ ধরনের ফন্ট থাকত না। আমি যদি বিশ্ববিদ্যালয় না ছাড়তাম, তাহলে আমি কখনোই ওই ক্যালিগ্রাফি কোর্সে ভর্তি হতাম না এবং কম্পিউটারে হয়তো কখনো এত সুন্দর ফন্ট থাকত না। অবশ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকা অবস্থায় এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে এক সুতায় বাঁধা অসম্ভব ছিল, কিন্তু ১০ বছর পর পেছনে তাকালে এটা ছিল খুবই পরিষ্কার একটা বিষয়।
আবার তুমি কখনোই ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলোকে এক সুতায় বাঁধতে পারবে না। এটা কেবল পেছনে তাকিয়েই সম্ভব। অতএব, তোমাকে বিশ্বাস করতেই হবে, বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলো একসময় ভবিষ্যতে গিয়ে একটা অর্থবহ জিনিসে পরিণত হবেই। তোমার ভাগ্য, জীবন, কর্ম, কিছু না কিছু একটার ওপর তোমাকে বিশ্বাস রাখতেই হবে। এটা কখনোই আমাকে ব্যর্থ করেনি, বরং উল্টোটা করেছে।
আমার দ্বিতীয় গল্পটি ভালোবাসা আর হারানোর গল্প:-
আমি খুব ভাগ্যবান ছিলাম। কারণ, জীবনের শুরুতেই আমি যা করতে ভালোবাসি, তা খুঁজে পেয়েছিলাম। আমার বয়স যখন ২০, তখন আমি আর ওজ দুজনে মিলে আমাদের বাড়ির গ্যারেজে অ্যাপল কোম্পানি শুরু করেছিলাম। আমরা পরিশ্রম করেছিলাম ফাটাফাটি, তাই তো দুজনের সেই কোম্পানি ১০ বছরের মাথায় চার হাজার কর্মচারীর দুই বিলিয়ন ডলারের কোম্পানিতে পরিণত হয়। আমার বয়স যখন ৩০, তখন আমরা আমাদের সেরা কম্পিউটার ম্যাকিন্টোস বাজারে ছেড়েছি। এর ঠিক এক বছর পরের ঘটনা। আমি অ্যাপল থেকে চাকরিচ্যুত হই। যে কোম্পানির মালিক তুমি নিজে, সেই কোম্পানি থেকে কীভাবে তোমার চাকরি চলে যায়? মজার হলেও আমার ক্ষেত্রে সেটা ঘটেছিল। প্রতিষ্ঠান হিসেবে অ্যাপল যখন বড় হতে লাগল, তখন কোম্পানিটি ভালোভাবে চালানোর জন্য এমন একজনকে নিয়োগ দিলাম, যে আমার সঙ্গে কাজ করবে। এক বছর ঠিকঠাকমতো কাটলেও এর পর থেকে তার সঙ্গে আমার মতের অমিল হতে শুরু করল। প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ তার পক্ষ নিলে আমি অ্যাপল থেকে বহিষ্কৃত হলাম। এবং সেটা ছিল খুব ঢাকঢোল পিটিয়েই। তোমরা বুঝতেই পারছ, ঘটনাটা আমার জন্য কেমন হতাশার ছিল। আমি সারা জীবন যে জিনিসটার পেছনে খেটেছি, সেটাই আর আমার রইল না।
সত্যিই এর পরের কয়েক মাস আমি দিশেহারা অবস্থায় ছিলাম। আমি ডেভিড প্যাকার্ড ও বব নয়েসের সঙ্গে দেখা করে পুরো ব্যাপারটার জন্য ক্ষমা চাইলাম। আমাকে তখন সবাই চিনত, তাই এই চাপ আমি আর নিতে পারছিলাম না। মনে হতো, ভ্যালি ছেড়ে পালিয়ে যাই। কিন্তু সেই সঙ্গে আরেকটা জিনিস আমি বুঝতে পারলাম, আমি যা করছিলাম, সেটাই আমি সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি। চাকরিচ্যুতির কারণে কাজের প্রতি আমার ভালোবাসা এক বিন্দুও কমেনি। তাই আমি আবার একেবারে গোড়া থেকে শুরু করার সিদ্ধান্ত নিলাম।
প্রথমে মনে না হলেও পরে আবিষ্কার করলাম, অ্যাপল থেকে চাকরিচ্যুতিটা ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে ভালো ঘটনা। আমি অনেকটা নির্ভার হয়ে গেলাম, কোনো চাপ নেই, সফল হওয়ার জন্য বাড়াবাড়ি রকমের কৌশল নিয়ে ভাবার অবকাশ নেই। আমি প্রবেশ করলাম আমার জীবনের সবচেয়ে সৃজনশীল অংশে।
পরবর্তী পাঁচ বছরে নেক্সট ও পিক্সার নামের দুটো কোম্পানি শুরু করি আমি, আর প্রেমে পড়ি এক অসাধারণ মেয়ের, যাকে পরে বিয়ে করি। পিক্সার থেকে আমরা পৃথিবীর প্রথম কম্পিউটার অ্যানিমেশন ছবি টয় স্টোরি তৈরি করি, আর এখন তো পিক্সারকে সবাই চেনে। পৃথিবীর সবচেয়ে সফল অ্যানিমেশন স্টুডিও। এরপর ঘটে কিছু চমকপ্রদ ঘটনা। অ্যাপল নেক্সটকে কিনে নেয় এবং আমি অ্যাপলে ফিরে আসি। আর লরেনের সঙ্গে চলতে থাকে আমার চমত্কার সংসার জীবন।
আমি মোটামুটি নিশ্চিত, এগুলোর কিছুই ঘটত না, যদি না অ্যাপল থেকে আমি চাকরিচ্যুত হতাম। এটা ছিল খুব বাজে, তেতো একটা ওষুধ আমার জন্য, কিন্তু দরকারি। কখনো কখনো জীবন তোমাকে ইটপাটকেল মারবে, কিন্তু বিশ্বাস হারিয়ো না। আমি নিশ্চিত, যে জিনিসটা আমাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিল সেটা হচ্ছে, আমি যে কাজটি করছিলাম, সেটাকে আমি অনেক ভালোবাসতাম। তোমাকে অবশ্যই তোমার ভালোবাসার কাজটি খুঁজে পেতে হবে, ঠিক যেভাবে তুমি তোমার ভালোবাসার মানুষটিকে খুঁজে বের করো। তোমার জীবনের একটা বিরাট অংশজুড়ে থাকবে তোমার কাজ, তাই জীবন নিয়ে সত্যিকারের সন্তুষ্ট হওয়ার একমাত্র উপায় হচ্ছে এমন কাজ করা, যে কাজ সম্পর্কে তোমার ধারণা, এটা একটা অসাধারণ কাজ। আর কোনো কাজ তখনই অসাধারণ মনে হবে, যখন তুমি তোমার কাজটিকে ভালোবাসবে। যদি এখনো তোমার ভালোবাসার কাজ খুঁজে না পাও, তাহলে খুঁজতে থাকো। অন্য কোথাও স্থায়ী হয়ে যেয়ো না। তোমার মনই তোমাকে বলে দেবে, যখন তুমি তোমার ভালোবাসার কাজটি খুঁজে পাবে। যেকোনো ভালো সম্পর্কের মতোই, তোমার কাজটি যতই তুমি করতে থাকবে, সময় যাবে, ততই ভালো লাগবে। সুতরাং খুঁজতে থাকো, যতক্ষণ না ভালোবাসার কাজটি পাচ্ছ। অন্য কোনোখানে নিজেকে স্থায়ী করে ফেলো না।
আমার শেষ গল্পটির বিষয় মৃত্যু:-
আমার বয়স যখন ১৭ ছিল, তখন আমি একটা উদ্ধৃতি পড়েছিলাম—‘তুমি যদি প্রতিটি দিনকেই তোমার জীবনের শেষ দিন ভাব, তাহলে একদিন তুমি সত্যি সত্যিই সঠিক হবে।এ কথাটা আমার মনে গভীরভাবে রেখাপাত করেছিল এবং সেই থেকে গত ৩৩ বছর আমি প্রতিদিন সকালে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে জিজ্ঞেস করিআজ যদি আমার জীবনের শেষ দিন হতো, তাহলে আমি কি যা যা করতে যাচ্ছি, আজ তা-ই করতাম, নাকি অন্য কিছু করতাম? যখনই এ প্রশ্নের উত্তর একসঙ্গে কয়েক দিন নাহতো, আমি বুঝতাম, আমার কিছু একটা পরিবর্তন করতে হবে।
পৃথিবী ছেড়ে আমাকে একদিন চলে যেতে হবে, এ জিনিসটা মাথায় রাখার ব্যাপারটাই জীবনে আমাকে বড় বড় সব সিদ্ধান্ত নিতে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছে। কারণ, প্রায় সবকিছুই যেমন, সব অতি প্রত্যাশা, সব গর্ব, সব লাজলজ্জা আর ব্যর্থতার গ্লানিমৃত্যুর মুখে হঠাত্ করে সব নেই হয়ে যায়, টিকে থাকে শুধু সেটাই, যা সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ। তোমার কিছু হারানোর আছেআমার জানা মতে, এ চিন্তা দূর করার সবচেয়ে সহজ উপায় হচ্ছে, সব সময় মনে রাখা যে একদিন তুমি মরে যাবে। তুমি খোলা বইয়ের মতো উন্মুক্ত হয়েই আছ। তাহলে কেন তুমি সেই পথে যাবে না, যে পথে তোমার মন যেতে বলছে তোমাকে?
প্রায় এক বছর আগের এক সকালে আমার ক্যানসার ধরা পড়ে। ডাক্তারদের ভাষ্যমতে, এর থেকে মুক্তির কোনো উপায় নেই আমার। প্রায় নিশ্চিতভাবে অনারোগ্য এই ক্যানসারের কারণে তাঁরা আমার আয়ু বেঁধে দিলেন তিন থেকে ছয় মাস। উপদেশ দিলেন বাসায় ফিরে যেতে। যেটার সোজাসাপটা মানে দাঁড়ায়, বাসায় গিয়ে মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হও। এমনভাবে জিনিসটাকে ম্যানেজ করো, যাতে পরিবারের সবার জন্য বিষয়টা যথাসম্ভব কম বেদনাদায়ক হয়।
সারা দিন পর সন্ধ্যায় আমার একটা বায়োপসি হলো। তাঁরা আমার গলার ভেতর দিয়ে একটা এন্ডোস্কোপ নামিয়ে দিয়ে পেটের ভেতর দিয়ে গিয়ে টিউমার থেকে সুঁই দিয়ে কিছু কোষ নিয়ে এলেন। আমাকে অজ্ঞান করে রেখেছিলেন, তাই কিছুই দেখিনি। কিন্তু আমার স্ত্রী পরে আমাকে বলেছিল, চিকিত্সকেরা যখন এন্ডোস্কোপি থেকে পাওয়া কোষগুলো মাইক্রোস্কোপের নিচে রেখে পরীক্ষা করা শুরু করলেন, তখন তাঁরা কাঁদতে শুরু করেছিলেন। কারণ, আমার ক্যানসার এখন যে অবস্থায় আছে, তা সার্জারির মাধ্যমে চিকিত্সা সম্ভব। আমার সেই সার্জারি হয়েছিল এবং দেখতেই পাচ্ছ, এখন আমি সুস্থ।
কেউই মরতে চায় না। এমনকি যারা স্বর্গে যেতে চায়, তারাও সেখানে যাওয়ার জন্য তাড়াতাড়ি মরতে চায় না। কিন্তু মৃত্যুই আমাদের গন্তব্য। এখনো পর্যন্ত কেউ এটা থেকে বাঁচতে পারেনি। এমনই তো হওয়ার কথা। কারণ, মৃত্যুই সম্ভবত জীবনের অন্যতম প্রধান আবিষ্কার। এটা জীবনের পরিবর্তনের এজেন্ট। মৃত্যু পুরোনোকে ঝেড়ে ফেলে এসেছে নতুন শিশুর জন্য জায়গা করে দেয়। এই মুহূর্তে তোমরা হচ্ছ নতুন, কিন্তু খুব বেশি দিন দূরে নয়, যেদিন তোমরা পুরোনো হয়ে যাবে এবং তোমাদের ঝেড়ে ফেলে দেওয়া হবে। আমার অতি নাটুকেপনার জন্য দুঃখিত, কিন্তু এটাই আসল সত্য।
তোমাদের সময় সীমিত। কাজেই কোনো মতবাদের ফাঁদে পড়ে, অর্থাত্ অন্য কারও চিন্তাভাবনার ফাঁদে পড়ে অন্য কারও জীবনযাপন করে নিজের সময় নষ্ট কোরো না। যাদের মতবাদে তুমি নিজের জীবন চালাতে চাচ্ছ, তারা কিন্তু অন্যের মতবাদে চলেনি, নিজের মতবাদেই চলেছে। তোমার নিজের ভেতরের কণ্ঠকে অন্যদের শেকলে শৃঙ্খলিত করো না। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো, নিজের মন আর ইনটুইশনের মাধ্যমে নিজেকে চালানোর সাহস রাখবে। ওরা যেভাবেই হোক, এরই মধ্যে জেনে ফেলেছে, তুমি আসলে কী হতে চাও। এ ছাড়া আর যা বাকি থাকে, সবই খুব গৌণ ব্যাপার।
আমি যখন তরুণ ছিলাম, তখন দি হোল আর্থ ক্যাটালগ নামের অসাধারণ একটা পত্রিকা প্রকাশিত হতো; যেটা কিনা ছিল আমাদের প্রজন্মের বাইবেল। এটা বের করতেন স্টুয়ার্ড ব্র্যান্ড নামের এক ভদ্রলোক। তিনি তাঁর কবিত্ব দিয়ে পত্রিকাটিকে জীবন্ত করে তুলেছিলেন।
স্টুয়ার্ট ও তাঁর টিম পত্রিকাটির অনেক সংখ্যা বের করেছিল। সত্তরের দশকের মাঝামাঝি সময়ে, আমার বয়স যখন ঠিক তোমাদের বয়সের কাছাকাছি, তখন পত্রিকাটির শেষ সংখ্যা প্রকাশিত হয়। বিদায়ী সেই সংখ্যার শেষ পাতায় ছিল একটা ভোরের ছবি। তার নিচে লেখা ছিলক্ষুধার্ত থেকো, বোকা থেকো। এটা ছিল তাদের বিদায়কালের বার্তা। ক্ষুধার্ত থেকো, বোকা থেকো। এবং আমি নিজেও সব সময় এটা মেনে চলার চেষ্টা করেছি। আজ তোমরা যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি ছেড়ে আরও বড়, নতুন একটা জীবনে প্রবেশ করতে যাচ্ছ, আমি তোমাদেরও এটা মেনে চলার আহ্বান জানাচ্ছি।
ক্ষুধার্ত থেকো, বোকা থেকো।
তোমাদের সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।